প্রাণের মেলায় প্রাণ নেই

Date | 2015-02-03 | 22:26:27
প্রাণের মেলায় প্রাণ নেই, তাই মনও ভাল নেই- এমনটাই দাবি করলেন প্রকাশকরা।

হরতাল-অবরোধের তাণ্ডবে মিলনমেলা মিলবে না বলেই ভাবছেন তারা। আর মিললেও আশানুরূপ বিক্রি হবে না বলেই আশঙ্কা তাদের। কোন কোন প্রকাশক ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, দোকানের কর্মচারি ও যাতায়াতের ভাড়ার টাকাও বিক্রি হচ্ছে না। মম প্রকাশনীর বিক্রেতা জানান, সন্ধ্যা নাগাদ তিনশ’ ৪০ টাকা বিক্রি করেছেন। আর দুইশ’ ৩৫ টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানান ঐশী পাবলিকেশন্স-এর বিক্রেতা। একই ধরনের হতাশার কথা জানালেন আরও কয়েকটি প্রকাশনীর বিক্রেতা ও মালিকরা। তবে দুপুর গড়াতে না গড়াতেই বইপ্রেমীরা হাজির হন গ্রন্থমেলার ফটকে। তখনও তিনটা বাজেনি। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর মেলার ফটকের বাইরে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলায় ঢোকার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন তারা। তাদের আগ্রহে তিনটার খানিক আগেই খুলে দেয়া হয় দ্বার। তবে মেলার তৃতীয় দিনে সোহরাওয়ার্দীর চেয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই পাঠকদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। এ নিয়ে প্রকাশকরা অসন্তুষ্ট। তাদের কথা- দুই জায়গায় আয়োজন করে মেলার সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে। কেউ কেউ বিভ্রান্তও হচ্ছেন। তবে মেলায় লোক সমাগম হলেও ক্রেতা কম বলে প্রকাশকরা হতাশা ব্যক্ত করেন। পার্ল পাবলিকেশন্স-এর স্বত্বাধিকারী জানান, শুক্রবার ছুটির দিনের অপেক্ষায় আছেন তারা। আশা করছেন ওই দিন হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাওয়া যাবে। তবে রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত দু’ বছর ধরে লোকসান গুণতে হচ্ছে। সারা বছর আমরা এই একটি মাসের অপেক্ষায় থাকি। অথচ বিভক্ত রাজনীতি আমাদের সব শেষ করে দিচ্ছে। আমরা পথে বসে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে যারা মেলায় আসতেন তারা বোমা আগুনের ভয়ে আসছেন না। বইমেলায় আগতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই মেলায় ঘুরতে এসেছেন। আবার কেউ কেউ ঘুরেফিরে কিনছেন পছন্দের বই।