আমি এখন মুক্ত : তসলিমা

Date | 2015-03-27 | 12:55:30
ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন ভারতের তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬(এ) ধারা রহিত করে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের প্রশংসা করেছেন।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি এখন দুশ্চিন্তামুক্ত। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬(এ) ধারাটিকে মধ্যযুগীয় আইন আখ্যা দিয়ে তসলিমা জানান, আমি একসময় এই আইনের শিকার হয়েছিলাম। তাই এখন আমি দুশ্চিন্তামুক্ত বোধ করছি। আমার টুইটের কারণে দুইবার আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে বিহার থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আমি যখন ওই আদেশ স্থগিতের জন্য লড়াই করছি, তখনই উত্তর প্রদেশ থেকে ২০১৪ সালে আমার আরেকটি টুইটের কারণে জারি হয় আরেকটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। বর্তমানে দিল্লিতে বসবাসরত তসলিমা জানান, একটি স্থগিতাদেশ তার খুব দরকার ছিল। কেননা, ওই পরোয়ানার কারণে ভারতের বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তিনি বলেন, ওই দুই পরোয়ানার ফলশ্রুতিতে বিদেশে আমার বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান স্থগিত করতে হয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল, আমি ভারতের বাইরে যেতে পারবো না। তবে আমি ভারতের অভ্যন্তরে মুক্তভাবে চলাচল করতে পারছিলাম। আমি যদি ভারতের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। এখন আমি মুক্ত। তিনি আরও জানান, যেহেতু তাকে ৬৬(এ) ধারা মোতাবেক হয়রানি করা হয়েছিল, সেহেতু তিনিও ওই আইনের বাতিল চেয়ে পিটিশন দাখিল করেছিলেন। তার ভাষ্য, আমি মুক্তচিন্তার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। আপনি যদি ইন্টারনেটে মুক্তভাবে মন্তব্য করতে না পারেন, তাহলে কীভাবে মুক্তচিন্তা ডানা মেলে উড়বে? ভারতে মুক্তচিন্তাকে খুবই শ্রদ্ধার সঙ্গে নেয়া হয়। আমি মনে করি, আদালতও একইভাবে চিন্তা করেছেন এবং ওই ধারাটি বাতিলে রাজি হয়েছেন। তার মতে, তথ্য প্রযুক্তি আইনটি স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতার মূলে আঘাত করেছে। তিনি জানান, এ বিজয় আমার ও আমার মুক্তচিন্তার আন্দোলনের জন্য বিশাল অনুপ্রেরণার। আমি বাংলাদেশেও একই ধরনের আইনের দরুন হেনস্থা হয়েছিলাম। সেখানে আইনটি ৫৭ আইসিটি আইন নামে পরিচিত। এখন বাংলাদেশেও একই আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়। আমি এ আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশে আমার বন্ধুদের উৎসাহ জোগাবো।