অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল

Date | 2015-03-28 | 12:54:35
গত রোববার স্প্যানিশ এল-ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।

ন্যু ক্যাম্পে নেইমার-মেসিদের কাছে ২-১ গোলে হার নিয়ে ফেরে করিম বেনজেমা-রাফায়েল ভারানে-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা। বৃহস্পতিবার আরও একবার মুখোমুখি হয় নেইমার ও বেনজেমা-ভারানেরা। তবে এবার নিজ দেশের হয়ে। কিন্তু এখানেও নেইমারের সঙ্গে পেরে ওঠেনি বেনজেমা-ভারানেরা। প্যারিসের প্রীতি ম্যাচে নেইমার-অস্কারের গোলে স্বাগতিক ফ্রান্সকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। এতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর ৭ ম্যাচে প্রথম হার দেখলো ফ্রান্স। অন্যদিকে প্রীতি ম্যাচে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য রূপ ধরে রাখলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গত বছর ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্যর্থ ছিল স্বাগতিকরা। জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে তাদের মিশন শেষ হয়। কিন্তু বিশ্বকাপের পর লুইস ফেলিপে স্কলারিকে সরিয়ে দ্বিতীয় দফায় ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব দেয়া হয় কার্লোস দুঙ্গাকে। আর দুঙ্গার ছোঁয়ায় এখন যেন পুরো পাল্টে গেছে সেলেকাওরা। বিশ্বকাপের পর টানা ৬ প্রীতি ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত রূপ দেখায় তারা। আর বৃহস্পতিবার সপ্তম জয় নিশ্চিত করলো ফ্রান্সের বিপক্ষে। এতে বিশ্বকাপের পর শতভাগ জয় ব্রাজিল ও দুঙ্গার। আর এই ৭ ম্যাচে ৮ গোল করে দেশের হয়ে দুর্দান্ত ফর্ম দেখাচ্ছেন অধিনায়ক নেইমার। ব্রাজিল এই সাত ম্যাচে মাত্র ২ গোল হজম করেছে। এর আগে ১৮ নভেম্বর অস্ট্রিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে বিশ্বকাপ পরবর্তী ম্যাচে প্রথম গোল খায় ব্রাজিল। আর এই ৭ ম্যাচে ব্রাজিল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে ১৭ গোল। বৃহস্পতিবার ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ২১ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে হেডের মাধ্যমে এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে। স্বাগতিক দর্শকদের সামনে তখন ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি। স্তাদে দ্য ফ্রান্সের এই মাঠে সেবার ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ৪০ মিনিটে সফরকারীদের সমতায় ফেরান চেলসির ফরোয়ার্ড অস্কার। ১-১ সমতা নিয়ে বিরতি যায় দুই দল। প্রথমার্ধে কিছুটা অগোছালো ছিল ব্রাজিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্বরূপে ফেরে তারা। ৫৭ মিনিটে পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের এগিয়ে দেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার নেইমার। দেশের হয়ে ৬১ ম্যাচে এটি তার ৪৩তম গোল। আর ৬৯ মিনিটে ব্রাজিলের বড় জয় নিশ্চিত করেন মিডফিল্ডার লুইস গুস্তাভো। চেলসির ফরোয়ার্ড উইলিয়ানের আরেকটি দারুণ প্রচেষ্টা ফ্রান্সের গোলরক্ষক মানদাদা ফিরিয়ে না দিলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো। অন্যদিকে এদিন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা দুটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।